সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজন একীভূত প্রচেষ্টার

0
48

সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সকলের একীভূত প্রচেষ্টা। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় যারা নিয়োজিত আছেন, সরকার, উন্নয়ন অংশীদারগণ এবং জনগনের একীভূত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জনগনকে নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্যাদি জনগনের হাতে পৌছে দিতে হবে। তাহলেই সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার যে লক্ষ্য সামনে নিয়ে আমরা এগোচ্ছি সেখানে অর্থনৈতিক চাপ ছাড়াই প্রত্যেক নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন সম্মেলনে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা।

পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর  পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলেক্ষ্যে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ নিয়ে  ৮-৯ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উপরোক্ত মতামত প্রতিফলিত হয়।  ঢাকার মহাখালীস্থ বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স এ সম্মেলন ও স্বাস্থ্যমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

 ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. সৈয়দ সাদ আন্দালীব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসসিআইসি’র  চেয়ারম্যান মোস্তাক হাসান মোঃ ইফতেখার, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ এন্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম) এর পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ বায়জিদ খুরশিদ রিয়াজ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিন এশিয়ার সাবেক উপদেষ্টা ও পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর এম মোজাহেরুল হক।

পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. ফাতেমা আশরাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে
বিগত বছরগুলোতে পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গ্রাম ও শহর উভয় স্থানে নানা রকম কর্মকান্ডের উপর বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন ভাইস চেয়ারপারসন  প্রফেসর ডাঃ শারমিন ইয়াসমিন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের সিইও ডাঃ সমীর কুমার সাহা।

জনস্বাস্থ্যের তথা গণমানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন তাঁদের মধ্যে এমন বিশিষ্ট দুইজনকে পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে “জনস্বাস্থ্য পুরস্কার-২০১৭” তুলে দেয়া হয়। এবছর এ সম্মানিত পুরষ্কারে ভূষিত হন বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ টি এ চৌধুরী এবং জনাব ভাস্কর ভট্টাচার্য।

সম্মেলনে “সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার” উপর প্রথম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট-এর সাবেক মহাপরিচালক জনাব আসাদুল ইসলাম। দ্বিতীয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার এস ই জি ইউনিভার্সিটির সাবেক ফ্যাকাল্টি প্রফেসর ডাঃ হাফিজা আরজুমান। তৃতীয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউকে থেকে আগত এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল জেনেটিক সায়েন্সের প্রধান প্যাথলজিস্ট প্রফেসর এন ডাল্টন।

দুইদিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্রায় ১২টি সেশনে গবেষকগণ তাঁদের গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল উপস্থাপন করেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, সংক্রামক রোগ, অসংক্রামক রোগ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ডেন্টাল হেলথ, অকুপেশনাল হেলথ, মেন্টাল হেলথ ইত্যাদি বিষয়ে সেশন গুলোতে আলোচনা করা হয়।
স্বাস্থ্য মেলার বিশেষ আকর্ষণ ও উদ্দেশ্য ছিল, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে উদ্ভাবনীমূলক কার্যক্রমগুলোকে জন সম্মুখে তুলে ধরা।

মেলায় সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর, বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. এম শমসের আলী।

Leave a Reply