জনগনকে তার স্বাস্থ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে: প্রফেসর শারমিন ইয়াসমিন

0
44

দিমাহে ডেক্সঃ জনগনকে তার স্বাস্থ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে । বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রথমেই একটি পর্যাপ্ত, উপযোগী ও জনমূখী জাতীয় জনস্বাস্থ্য বাজেট প্রনয়ন করে তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাম, উপশহর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার পাশাপাশি তারা যাতে স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যয়ভার মিটাতে আর্থিক সংকটে না পরে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও  পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ এর ভাইস-চেয়ারপার্সন প্রফেসর ডাঃ  শারমিন ইয়াসমিন।

মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ইং  সকাল ১০ঘটিকায়  জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ভিআইপি লাউঞ্জে ইউনিভার্সেল হেলথ কভারেজ ডে ২০১৭ উপলক্ষে, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ (পিএইচএফবিডি) ও রোটারী ক্লাব অব বিক্রমপুর যৌথভাবে আয়োজিত  গন মাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা সভায়  মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ”আপনার স্বাস্থ্য অধিকার সম্পর্কে জাগ্রত হঊন”এই স্লোগানকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ইউনিভার্সেল হেলথ কভারেজ বা সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন করা সম্ভব। বিশ্বস্বাস্ব্য সংস্থা ইহাকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)’র একটি শক্তিশালী উপাদান বলে উল্লেখ করেছে। এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবকে কমিয়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয়মুক্ত, ধর্ম, বর্ণ, আয়, লিংঙ্গ, বয়স ভেদে সবাইকে স্বাস্থ্যবান রাখা সম্ভব।

প্রাথমিক স্তরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বেশী প্রাধান্য দিয়ে, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য-কর্মী সংখ্যা বাড়িয়ে,  কমিউনিটি ক্লিনিকে আরও কার্যকরী করে এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল  গুলোতে চিকিৎসকদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করণে আরও কার্যকর প্রদক্ষেপ নিতে হবে।  প্রয়োজনবোধে জেলা গুলোতে আরও বিশেষজ্ঞ  ডাক্তার নিয়োগ দিতে হবে। তাহলেই সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য সেবার পরিমান ও গুনগত মান অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব। মেডিক্যা ল শিক্ষা পদ্বতিতে শিক্ষানবীশদের  স্বাস্থ্য উন্নয়ন  ও রোগ প্রতিরোধ মূলক বিষয়-বস্তুর  ঊপ ও জোর দিতে হবে, শিক্ষাদান পদ্ধতিকে কমিউনিটি ভিত্তিক এবং সমন্বিত করতে হবে।

সরকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারী স্বাস্থ্য প্রতিাষ্ঠান গুলোকে পারস্পারিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রকে প্রসারিত করতে হবে। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা র পাশাপাশি বিকল্প স্বাস্থ্য সেবা (অল্টারনেটিব মেডিসিন)কে ও আমাদের মূলধারার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মূল্যায়নে আনতে হবে।

চিকিৎসক, নার্স, প্যা রামেডিক, টেকনোলজিস্ট এবং অন্যান্য সাস্থ্য কর্মীদের ও সংখ্যা বাড়িয়ে তাদের দক্ষতা, দ্বায়িত্ব-বোধ, নিষ্ঠা ও  সদিচ্ছার  বাস্তব প্রতিফলন ঘটলে ২০৩২ সালের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন আমাদের বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন অনুষ্ঠানের আলোচকরা।

পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ (পিএইচএফবিডি)’র  প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিন এশিয়ার সাবেক ঊপদেষ্ঠা প্রফেসব এম মোজাহেরুল হকের সঞ্চালনায় ও সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে ঊপস্থিত ছিলেন, রোটারী ক্লাব অব বিক্রমপুরের প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান এম.এ.কে.এস মাসুম।

আলোচনায় অংশগ্রহন করেন সাবেক বিএমএ মহাসচিব প্রফেসর ডাঃ রশিদ ই মাহবুব,  প্রফেসর ডাঃ মোহাম্মদ আবু সাঈদ, প্রফেসর ডাঃ হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন,বাংলাদেশ এর চেয়ারপার্সন প্রফেসর ডাঃ ফাতেমা আশরাফ ও পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক ডাঃ সমীর কুমার সাহা।

Leave a Reply