১৩-১৫ জানুঃ ঢাবিতে আন্তর্জাতিক ট্রেডিশনাল মেডিসিন কংগ্রেস

0
119

বিশ্বের ৩২টি দেশের প্রায় ৮০০ জন স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদর অংশগ্রহনে আগামী ১৩-১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগ, ফার্মেসী অনুষদ একটি আন্তর্জাতিক ট্রেডিশনাল মেডিসিন কংগ্রেস (ISE-SFEC 2018) আয়োজন করতে যাচ্ছে। বিশ্বের সর্বমোট ৩২টি দেশ থেকে প্রায় ৫০ জন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে আনুমানিক ১০০ জন এবং বাংলাদেশের ৬৫০ জনসহ মোট ৮০০ জন স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষার্থী, নিয়ন্ত্রণকারি সংস্থা ও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনটি প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চলবে।

এ উপলক্ষে আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ সীতেশ চন্দ্র বাছার লিখিত বক্তব্যে জানান, নানা কারণে বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে বসবাসকারি শতকরা ৭৫ ভাগ নিন্মমধ্যবিত্ত মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসায় গুনগত মানসম্পন্ন ইউনানী, আয়ূর্বেদ, হার্বাল ও হোমিওপ্যাথি ওষুধের ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। মান সম্পন্ন এই সকল ট্রাডিশনাল ওষুধের  উৎপাদন ও বাজারজাত করে চীন ও ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করার পর বিদেশে রপ্তানি করছে। যদিও হাতে গোনা কয়েকটি বাংলাদেশী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মানসম্পন্ন ট্রাডিশনাল ওষুধের উৎপাদন ও বিপনন করছে, তথাপি ভারতের সাথে আমাদের একই সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, ভাষা ও ঐতিহ্যের মিল থাকা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে আমরা অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি। গুণগত মানসম্পন্ন ইউনানী, আয়ূর্বেদ, হোমিওপ্যাথি ও হার্বাল ওষুধ উৎপাদন করে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণের পর চীন ও ভারতের মত আমাদের পক্ষেও বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। সেজন্য এ সম্পর্কিত শিক্ষাব্যবস্থা এবং গবেষণায় উন্নতি ও সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্টমন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রণকারি সংস্থাকে আরো আধুনিকীকায়ন ও শক্তিশালী করা বিশেষ প্রয়োজন। আর সেটা করার সব চেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে আন্তর্জাতিক সেমিনার/কংগ্রেস/সিম্পোজিয়াম আয়োজন, যেখানে বিশ্বের স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ, গবেষক,নিয়ন্ত্রণকারি সংস্থা ও প্রস্তুতকারকগণ উপস্থিত থাকবেন। ফলে আমাদের ছাত্র-শিক্ষক, গবেষক, প্রস্তুত কারক ও নিয়ন্ত্রণকারি সংস্থাসহ সকলের মতপ্রকাশ, মতবিনিময় ও জ্ঞানার্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই লব্ধ শিক্ষার মাধ্যমে আমরা মানসম্পন্ন ইউনানী, আয়ূর্বেদ, হোমিওপ্যাথি ও হার্বাল ওষুধ প্রস্তত এবং দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করার পর বিদেশেও রপ্তানি করতে সক্ষম হবে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম বারের মত অনুষ্ঠিতব্য কংগ্রেসের বিষয়বস্তু ও প্রত্যাশিত ফলাফল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বানিজ্য মন্ত্রণালয় এর উদ্দেশ্য ও লক্ষাবলীর সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। উপরন্তু ভারত সরকারের আইউশ মন্ত্রণালয়ের সাথে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মধ্যকার স্বাক্ষরিত চুক্তির আর্টিকেল-২ এর অনেকগুলো শর্ত পূরণ করে। সর্বোপরি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক এর সভায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ট্রাডিশনাল ওষুধের উপর একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের ঘোষনার সাথে খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ মোঃ আঃ রশীদ, অধ্যাপক ডঃ মোঃ সেলিম রেজা, ডঃ মোঃ আসলাম হোসেন, ডঃ শাহ এমরান ও ডঃ একে লুতফুল কবির।

 

Leave a Reply